20/10/2019
গাপ্পি মাছের রোগ এবং এর চিকিৎসা
গাপ্পি এবং অন্যান্য লাইভ বেয়ারার মাছ সাধারণত বেশ শক্ত-পোক্ত টাইপের মাছ হয়ে থাকে। এরা সহজে অসুস্থ হয় না এবং অল্প কয়েকটি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। অ্যাকুরিয়ামে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং প্যারাসাইট সাধারণত মাছকে রোগাক্রান্ত করে থাকে। যদি অ্যাকুরিয়াম সঠিকভাবে সেটাপ করা থাকে এবং যদি মাছের খাবার সঠিকভাবে পুষ্টির পরিমাণ বজায় রেখে দেয়া হয় তাহলে গাপ্পি মাছের সাধারণ অ্যামিউন সিস্টেমই বেশিরভাগ রোগ প্রতিরোধ করতে পারে, এর সাথে মাছ নিজেও স্বাস্থ্যবান হয়।
গাপ্পি মাছের সাধারণ রোগের তালিকা এবং চিকিৎসাঃ
এখানে গাপ্পি মাছের সাধারণ যেসব রোগ হয় তার একটি তালিকা এবং রোগের উপসর্গ এবং চিকিৎসা দেয়া হলো। তবে, অনুরোধ থাকলো মাছের চিকিৎসা করার আগে রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করুন এবং কেন রোগটি হচ্ছে সেটি বুঝুন যাতে ভবিষ্যতে এই রোগটিকে প্রতিরোধ করা যায়। পানির গুণগত মানের কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। অসুস্থ মাছকে/মাছগুলিকে অন্য কোন জায়গায় বা চিকিৎসার জন্য অ্যাকুরিয়াম তৈরি করে সেখানে সরিয়ে রাখতে হবে। চিকিৎসার পর মাছ সুস্থ হলে আবার অন্যান্য মাছের সাথে রাখা যাবে।
রোগের নামঃ ইচ/হোয়াইট স্পটস
লক্ষণঃ মাছের ত্বক এবং পাখনার উপর ছোট ছোট সাদা বিন্দু দেখা দিবে। খেয়াল করলে দেখা যাবে মাছ তার শরীর অ্যাকুরিয়ামের সাইড, বিভিন্ন সাজসজ্জার বস্তু বা কোনাযুক্ত কিছুর সাথে তার শরীর বারবার ঘষছে। আক্রান্ত মাছকে অস্বস্তিকর দেখাবে এবং খাওয়া আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিবে।
কারণঃ এটা হয় সাধারণত যখন খুব দ্রুত অ্যাকুরিয়ামের পানির তাপমাত্রা এবং pH এর পরিমাণ পরিবর্তন হয়। কখনও কখনও পানির বাজে মানের কারণেও হয়ে থাকে।
চিকিৎসাঃ এর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় মুদি দোকানে পাওয়া যাওয়া আয়োডিন ছাড়া লবণ ব্যবহার করাটা সবচেয়ে সহজ। রঙ্গীন মাছের দোকানে বেশ কিছু ধরণের ঔষধ পাওয়া যায়। ঔষধের গায়ে দেয়া নির্দেশাবলী পড়ে ব্যবহার করার অনুরোধ করা হলো।
এছাড়া প্রচলিত চিকিৎসার মধ্যে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে পানির তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি করে রাখা এবং প্রতি ১০ গ্যালন পানিতে ১ টেবিল চামুচ আয়োডিন ছাড়া লবণ মিশিয়ে দেয়া। প্রতিদিন ৫০% পানি পরিবর্তন করে আবার সেই অনুপাতে লবণ মেশানো। আশা করা যায় ৭ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
প্রতিরোধঃ পানির তাপমাত্রা সবসময় ৩০ ডিগ্রির আশেপাশে রাখা ও pH এর সঠিক মান বজায় রাখা সহ পানির মান বজায় রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত ১ বার ২৫% পানি পরিবর্তন করতে হবে।
রোগের নামঃ ফিন রট/টেইল রট
লক্ষণঃ পঁচে যাওয়া লেজ বা পাখনা। লেজ বা পাখনা দেখলে মনে হয় এটি ছিড়ে যাচ্ছে, জীর্ণ/ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে যাওয়া, লাল বা সাদা দাগ হয়ে যাওয়া। মাঝেমাঝে মনে হয় লেজ আর পাখনা একসাথে আটকে আছে। আবার গাপ্পি মাছের লেজ বা পাখনা খসে পড়ে যায়।
কারণঃ এটা মূলত ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এছাড়াও আগ্রাসী মাছেরা লেজ বা পাখনা খেয়ে ফেলে। তখনও এটা হয়ে থাকে।
চিকিৎসাঃ এর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় রঙ্গীন মাছের দোকানে বেশ কিছু ধরণের ঔষধ পাওয়া যায়। ঔষধের গায়ে দেয়া নির্দেশাবলী পড়ে ব্যবহার করার অনুরোধ করা হলো। সবচেয়ে প্রচলিত ঔষধের নাম Renamycin Capsul (250 mg)। এটি উৎপাদন করে Renata কোম্পানি। দাম ক্যাপসুল প্রতি ২ টাকা মাত্র। এর কার্যকরি উপাদান হলোঃ Oxytetracycline hydrochloride
চিকিৎসা পদ্ধতিঃ প্রতি ১০ গ্যালন পানিতে একটি ক্যাপসুল খুলে এর ভেতরের পাউডার ভালো করে মেশাতে হবে। অ্যাকুরিয়ামে ঔষধ মেশানোর পরে প্রতিদিন ৫০% পানি পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই অনুপাতে আবার নতুন পানিতে ঔষধ মিশিয়ে অ্যাকুরিয়ামে দিতে হবে। এরূপ ৫ - ১০ দিন করতে হবে। ৫ দিনের পরে যদি কোনো উন্নতি দেখা না যায় তাহলে ঔষধ ব্যবহার বন্ধ রাখাটাই ভালো। ঔষধ ব্যবহার করার সময় অ্যাকুরিয়ামে ইউভি লাইট আর অ্যাক্টিভেটেড কার্বণ ব্যবহার করা যাবে না। এতে ঔষধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।
কেমিক্যালি চিকিৎসা করতে চাইলে এরিথ্রোমাইসিন, মিনোসাইক্লিং, ট্রাইমেথোপ্রিম এবং সালফাডাইমিডাইন ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জংগল ফাঙ্গাস এলিমিনেটর এবং টেট্রাসাইক্লিন ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
প্রতিরোধঃ আগ্রাসী মাছের থেকে আলাদা রাখতে হবে। অনেক সংখ্যক মাছ একসাথে রাখা যাবে না। পানির গুণাগুন বজায় রাখতে হবে।
রোগের নামঃ গিল ফ্লুকস
লক্ষণঃ অসুস্থ মাছ/মাছগুলি ক্রমাগত অ্যাকুরিয়ামে থাকা কোনো কোনাযুক্ত বস্তু বা সাইডে এদের গিল ঘষতে থাকবে এবং পানির উপরের অংশে মাছটি বাতাস নেয়ার জন্য ভাসতে থাকবে। শেষ পর্যায়ে মাছ অ্যাকুরিয়ামের নিচের অংশের বসে থাকবে। গিল দেখলে মনে হবে সেখান থেকে রক্ত পড়ছে আর মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হবে।
কারণঃ পানির গুণাগুন খারাপ এবং সাদা কীট ও প্যারাসাইটের কারনে হতে পারে।
চিকিৎসাঃ এর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় রঙ্গীন মাছের দোকানে বেশ কিছু ধরণের ঔষধ পাওয়া যায়। ঔষধের গায়ে দেয়া নির্দেশাবলী পড়ে ব্যবহার করার অনুরোধ করা হলো। সবচেয়ে প্রচলিত ঔষধের নাম Renamycin Capsul (250 mg)। এটি উৎপাদন করে Renata কোম্পানি। দাম ক্যাপসুল প্রতি ২ টাকা মাত্র। এর কার্যকরি উপাদান হলোঃ Oxytetracycline hydrochloride
চিকিৎসা পদ্ধতিঃ প্রতি ১০ গ্যালন পানিতে একটি ক্যাপসুল খুলে এর ভেতরের পাউডার ভালো করে মেশাতে হবে। অ্যাকুরিয়ামে ঔষধ মেশানোর পরে প্রতিদিন ৫০% পানি পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই অনুপাতে আবার নতুন পানিতে ঔষধ মিশিয়ে অ্যাকুরিয়ামে দিতে হবে। এরূপ ৫ - ১০ দিন করতে হবে। ৫ দিনের পরে যদি কোনো উন্নতি দেখা না যায় তাহলে ঔষধ ব্যবহার বন্ধ রাখাটাই ভালো। ঔষধ ব্যবহার করার সময় অ্যাকুরিয়ামে ইউভি লাইট আর অ্যাক্টিভেটেড কার্বণ ব্যবহার করা যাবে না। এতে ঔষধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।
কেমিক্যালি চিকিৎসা করতে চাইলে ফরমালিন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, অরগানোফসফেট, প্রাজিকুয়ান্টেল, মেবেন্ডাযল এবং টল্ট্রাযুরিল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সম্পূর্ণরূপে মুক্তি পেতে এই চিকিৎসা ২ বার করা ভালো কারণ প্যারাসাইটের ডিমের উপর ঔষধ কোনো কাজ করে না। এছাড়া জিল প্যারাসাইটের চিকিৎসা পুরো অ্যাকুরিয়ামে করাই ভালো।
প্রতিরোধঃ অ্যাকুরিয়ামে নতুন মাছ বা গাছ যোগ করার আগে কয়েকদিন আলাদা জায়গায় রেখে দেয়া উচিৎ। পানির মান ভালো রাখতে হবে। বিশেষ করে পরিষ্কার রাখতে হবে।
রোগের নামঃ ড্রপসি
লক্ষণঃ অসুস্থ মাছটি দেখতে দেখতে প্রচন্ড ফুলে যাবে এবং আঁশ খাড়া হয়ে যাবে।
কারণঃ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে হয়।
চিকিৎসাঃ রোগ নির্ণয়ের সাথে সাথেই রোগাক্রান্ত মাছকে আলাদা করে ফেলতে হবে। ড্রপসি হলে সাধারণত আর বাঁচানো যায় না। যখন এর লক্ষণ প্রকাশ পায় ততক্ষণে মাছের বেশিরভাগ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়।
তারপরেও এর একটি কেমিক্যাল চিকিৎসা রয়েছে। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ঔষধ মারাসিন-২। ১০ দিনের কোর্স সম্পন্ন করলে আশা করা যায় মাছ সুস্থ হয়ে যাবে।
প্রতিরোধঃ পানির pH এর মাত্রা সঠিক রাখতে হবে। সঠিক মাত্রা ৫.৫ – ৮.৫ এর মধ্যে রাখতে হবে। পানির গুণাগুন সঠিক রাখতে হবে এবং মাছেদের চাপমুক্ত পরিবেশে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
এছাড়াও আরোও অনেক রোগ আছে যেগুলোতে গাপ্পি মাছ আক্রান্ত হয়। পরবর্তিতে সেগুলো নিয়েও আলোচনা হবে।
টিপস: আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম-এর আশেপাশেই কোনো জায়গায় এই সাধারণ রোগগুলির জন্য ঔষধ করার চেষ্টা করুন, যাতে আপনি সরাসরি আপনার অসুস্থ মাছটির চিকিৎসা করতে পারেন। প্যাকেজিংয়ের নির্দেশ অনুযায়ী শুধুমাত্র সুপারিশকৃত পরিমাণের ঔষধ দিন, কারণ অতিরিক্ত ডোজ আপনার মাছের জন্য বিষাক্ত হতে পারে
(সংগৃহীত)